Skip to main content

একজন বিচক্ষণ আলিমেদ্বীনের শানদার গল্প!



আবদুস সালাম আযাদ

বাল্যকালে বড়দের মুখে মুখে আমাদের জকিগঞ্জের এক কীর্তিমান আলিমের নাম উচ্চারিত হতে শুনতাম। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও বিচক্ষণতা, কাজে দৃঢ়তা ও কথাবার্তায় বলিষ্ঠতা, যবানে মিষ্টতা এবং মুখে রসিকতার নানান গল্প-উপাখ্যানের কথাও থাকতো বড়দের মুখে। তখন থেকে তাঁর প্রতি এক অন্যরকম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আমার মাঝে কাজ করে। তাঁকে একনজর সরাসরি দেখার প্রতি আগ্রহও তৈরি হয়। যখন একটু বোধবুদ্ধির অধিকারী হই তখন জানলাম এই মহান মানুষের আত্মীয়তা আমাদের গ্রাম বারঠাকুরীতেই। এখানে উনার শ্বশুরবাড়ি। জকিগঞ্জ থানার পরিচিত এক সালিস ব্যক্তিত্ব আমাদের বারঠাকুরীর প্রবীণ মুরব্বি অধমের সম্পর্কিত চাচা মরহুম ফুরকান আলী রাহ. হলেন হযরতের শ্বশুর।
হযরত মাওলানা আবদুল মু'মিন পাকিস্তানি রাহ. ১৯৫৬ ঈসায়ী সালের ২রা এপ্রিল ৫ নং জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভাখরশাল (মানিকপুর) গ্রামে এক দ্বীনদার ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম মৃত হাজী আমীর আলী ও মাতার নাম জয়নব বেগম। শৈশবের শিক্ষার হাতে খড়ি নিজ পিতামাতার তত্ত্বাবধানেই। এরপর মসজিদের মক্তব থেকেই তাঁর ধর্মীয় শিক্ষার প্রাথমিক ফাউন্ডেশন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার যাত্রা গ্রামের স্কুল থেকেই। এখানে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা করার পর পিতা-মাতা তাঁদের কলিজার টুকরো নয়নের মণিকে দ্বীনিশিক্ষায় শিক্ষিতকরণের মহান উদ্দেশ্য নিয়ে ভর্তি করিয়ে দিলেন কাওমী মাদরাসায়। তিনি ভর্তি হয়ে গেলেন খলিফায়ে মাদানী আল্লামা শায়খ আবদুল গাফফার মামরখানী রাহ. প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ইলমি মারকায জামিয়া ইসলামিয়া ফয়যে আম মুনশীবাজারে। মুনশীবাজার মাদরাসা তখন ছিলো যুগশ্রেষ্ঠ অনেক ইলমি ব্যক্তিত্বের বিচরণক্ষেত্র। ইলম ও ইরফানের সৌরভে মুনশীবাজার মাদরাসা থাকতো সদাসর্বদা মুখরিত। সেই খ্যাতিমান উলামায়ে কেরামের শাগরিদের তালিকায় মাওলানা আবদুল মু'মিন পাকিস্তানি রাহিমাহুল্লাহর নামও যুক্ত হলো।
জামিয়া ইসলামিয়া ফয়যে আম মুনশীবাজারে তিনি মাধ্যমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে লেখা-পড়া করেন। সীমাহীন মেহনত ও মুজাহাদা, এবং আসাতিযায়ে কেরামদের নিঃস্বার্থ খেদমত তাঁকে নিয়ে যায় এক অনন্য উচুঁ মর্যাদায়। তিনি প্রতিটি ক্লাসে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। তাঁর উসতায আল্লামা শায়খ আবদুল গাফফার মামরখানী রাহ., শায়খুল হাদীস আল্লামা মুকাদ্দাস আলী হাফিজাহুল্লাহ, শায়খুল হাদীস আবদুল মুসাব্বির আইয়রী হাফিজাহুল্লাহ, শায়খ আবদুল কাইয়ুম সালেহপুরী রাহ. ও শায়খুল হাদীস শফীকুর রহমান জালালাবাদী হাফিজাহুল্লাহ তাঁকে সীমাহীন মুহাব্বত করতেন। তাঁর ইলমি পরিপক্বতার ভূয়সী প্রশংসা করতেন। এ ছাড়াও অন্যান্য আসাতিযায়ে কেরামের নেকদৃষ্টি ও নেক দুআ তাঁর প্রতি ছিলো।
তাঁর মুনশীবাজারের সহপাঠী সিলেট ভার্থখলা মাদরাসার প্রবীণ মুহাদ্দিস শায়খুল হাদীস আবদুর রহীম হাফিজাহুল্লাহ বলেন- তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী ও ধীশক্তির অধিকারী। তাঁর মুখের ভাষা ছিলো খুবই প্রাঞ্জল। ছিলেন প্রত্যুৎপন্নমতি। পড়া-শোনায় তাঁর ও আমার মাঝে প্রতিযোগিতা হতো। বেশিরভাগ সময় পরীক্ষার ফলাফলে তিনি আমার থেকে এগিয়ে থাকতেন। আর আমিও অনেক সময় তাঁর আগে থাকতাম। আমাদের সাথীদের মধ্যে তিনিই ছিলেন খুবই রসিক এবং সদালাপী। দৈহিক গড়গঠনেও তিনি ছিলেন সুদর্শন। চেহারার মাধুর্যতা আর রসালাপের বাচনভঙ্গি দিয়ে তৈরি করে নিতে পারতেন একটি মনোমুগ্ধকর -পরিবেশের। তাঁর এমন চমকপ্রদ কথায় সাথীদের মধ্যে ফিরে আসতো সজীবতার ছোঁয়া। আমরা যেখানেই যেতাম, সেখানেই আমাদের মধ্যমণি থাকতেন সাথীভাই আবদুল মু'মিন পাকিস্তানী রাহ.'। হযরতের আরেক সাথী আমাদের বারঠাকুরী গ্রামের মাওলানা আবদুল খালিক সাহেব বলেন- ' মাওলানা আবদুল মু'মিন এর একটি ব্যতিক্রমধর্মী গুণ ছিলো, আর তা হলো- কোন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সঠিক এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ। সাংগঠনিকভাবে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ করে তুলতেন খুবই সহজে। যার কারণে যেকোন আন্দোলন সংগ্রামে জামিয়া ইসলামিয়া ফয়যে আম মুনশীবাজার মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সাহসী ভূমিকা পালন করতো। এর সাক্ষী নিকট-অতীতের অনেক প্রবীণ মুরব্বী।
মুনশীবাজার মাদরাসা থেকে মুখতাসার জামাত পর্যন্ত অধ্যয়ন করে চলে যান জামিয়া কাসিমুল উলূম দরগাহে হযরত শাহজালাল রাহ. সিলেটে। সেখানে গিয়েও অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে তিন বছর পড়াশোনা করে শিক্ষাজীবনের পরিসমাপ্তি করেন। এরপর আরো উচ্চতর পড়া-শোনার অদম্য বাসনা নিয়ে পাকিস্তানে পাড়ি জমান। ভর্তি হন দারুল উলূম করাচী পাকিস্তানে। সেখানে ইফতা পড়েন অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে। শুনেছি, দারুল উলূম করাচীতে ইফতা পরীক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে নিজ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের সাবেক আমিনুত তালিম মাওলানা মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ হাফিজাহুল্লাহ আমেরিকার নিউইয়র্ক দারুল উলূমে তাঁর তৃতীয় ছেলে হাফিজ শিহাব উদ্দিন ফরহাদকে বলেন- দারুল উলূম করাচীতে মাওলানা মরহুম আমাদের সিনিয়র ছিলেন। তিনি আল্লামা রফি উসমানীর স্নেহধন্য খাদিম ছিলেন। মাওলানা খুবই মেহনত মুজাহাদার সঙ্গে ইফতার ক্লাসে বসতেন। নিয়মিত মাসআলা মাসাইলের তহকীক করতেন।
এমনকি সেখানে তিনি শিক্ষকতার খিদমতেরও সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্ত যার মনে ইলিম অন্বেষণের সীমাহীন তাড়না, সে কী আর বসে থাকে? না, তিনি এই সুবর্ণ সুযোগকে স্বাগতম না জানিয়ে ফের ইলমের তালাশে নেমে পড়েন। তিনি এখন জামিয়া ফারুকিয়া করাচীতে আল্লামা সলিমুল্লাহ খান রাহিমাহুল্লাহর সান্নিধ্যে। এখানে এসে দাওরায়ে হাদীসে ভর্তি হয়ে গেলেন।  আল্লামা সলিমুল্লাহ খান রাহিমাহুল্লাহর কাছে বুখারী শরীফের পাঠগ্রহণ করে হাদীসের ইজাযত নিয়ে দেশে ফিরেন।
দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরই প্রিয় উসতায আল্লামা শফীকুর রহমান জালালাবাদী (আমাদের সিলেটে যিনি কিশোরগঞ্জী হুযুর নামে সমধিক পরিচিত) হাফিজাহুল্লাহর প্রস্তাবে প্রথমেই জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জে শিক্ষকতার খিদমতে ব্রতী হন। মহান এই উসতায শিষ্য আবদুল মুমিন-এর তেজস্বী মেধা ও জ্ঞান গরীমার কথা আগে থেকেই জানা ছিলো। তাই প্রিয় ছ
াত্রকে জামিয়া ইমদাদিয়ায় শিক্ষকতার প্রস্তাব রেখেছিলেন। উসতাযের কথাকে সাদরে গ্রহণ করেই তিনি লেগে গেলেন খিদমাতে। শিক্ষকতায় পেশায় নিয়োগ পেয়েই তাঁর নেসাবে এসে গেলো দারসে নেজামীর সুপঠিত জটিল ও কঠিন কিতাব 'মুখতাসারুল মাআনী'। তিনি তাঁর মেধার সবটুকু দিয়েই পাঠদান করতে লাগলেন 'মুখতাসারুল মাআনী ছাড়াও দারসে নেজামীর অন্যান্য কিতাবাদী। বাড়ি থেকে কিশোরগঞ্জের দূরত্ব কয়েকশো কিলোমিটার। এ দিক বিবেচনা করে একবছর পর সেখান থেকে চলে আসেন নিজ জেলা পূন্যভূমী সিলেটে।
সিলেট এসে জামিয়া মুহাম্মদিয়া শাহগলী জকিগঞ্জ, জামিয়া মাহমুদিয়া সোবহানীঘাট, জামিয়া হুসাইনিয়া মীরবক্সটুলা নয়াসড়ক ও জামিয়া হুসাইনিয়া আরাবিয়া রানাপিংসহ অনেক মাদরাসায় শিক্ষকতা ও মুহতামিমের দায়িত্ব নানাসময়ে দীর্ঘদিন পালন করেছেন। এরপর চলে যান আমেরিকায়। এখানে গিয়েও তিনি বসে থাকেননি, দারুল উলূম নিউইয়র্কে হাদীসের মসনদে আসীন হয়ে কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান বিতরণে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। অমুসলিম এই দেশে ইসলামী তাহযিব তামাদ্দুনের প্রচার-প্রসারে ফিকিরমন্দ থেকে সদাসর্বদা নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। মোটকথা, তাঁর জীবনে অলসতা, উদাসীনতা কখনো স্পর্শ করেনি। কর্ম চাঞ্চল্যেই তিনি নিজেকে ডুবিয়ে রাখতেন।
তিনি যেখানেই গেছেন, সেখানেই মানুষ গড়ার কাজ করেছেন। সফল হয়ে ফিরেছেন। কখনো হার মানেননি পরিবেশ পরিস্থিতির কাছে। বরং সফল এবং বিজয়ী হয়েছেন সবখানে।
মাদরাসার উন্নতি ও অগ্রগতির কাজে নিজের জীবনের সর্বোচ্চটুকু বিলিয়ে দিয়েছেন। এসব দায়িত্ব পালনে তিনি কী পরিমাণ শ্রম দিয়েছেন তা সিলেটের সকলশ্রেণীর আলেমের কাছে অজানা থাকার কথা নয়। আমানতদারী, সচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বেলায় তিনি খুবই যত্নবান ছিলেন। আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং মাসলাকে দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন খুবই অটল অবিচল। মাদরাসাগুলোর দায়িত্ব পালনকালীন কত যে অনাহারে-অর্ধাহারে থেকেছেন, কাটিয়েছেন কত যে নির্ঘুম রাত। পরিবার-পরিজনের খুঁজ খবর নিতেও করতে হয়েছে তাঁর কত কষ্টকর পরিস্থিতি। এসবের চাক্ষুষ স্বাক্ষী তাঁর সহকর্মীদের কাছে আমরা শুনেছি। সন্তানদের মুখ থেকেও শুনেছি বহুবার।
মাওলানা আবদুল মু'মিন যেখানেই যেতেন, যে প্রতিষ্ঠানেই যেতেন তাঁর দক্ষ পরিচালনায় সেগুলো হয়ে উঠতো দ্বীনিশিক্ষার একেকটি শক্ত দূর্গ। জামিয়া শাহগলী, জামিয়া নয়াসড়ক, জামিয়া রানাপিং এবং নিউইয়র্কের দারুল উলূম আজ যার উজ্জ্বল স্বাক্ষী।
মাওলানা আবদুল মু'মিন পাকিস্তানি রাহিমাহুল্লাহ। সিলেটের ইলমি মহলে এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ছিলেন আকাবির উলামার স্নেহধন্যদের একজন। তিনি যেখানে অবস্থান করতেন, সেখানে তাঁকে ঘিরেই আলেম-উলামাদের সরব উপস্থিতি থাকতো। উলামাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়ে উঠতো তাঁর আবাসস্থল। মাসিক মদীনা সম্পাদক আল্লামা মুহিউদ্দীন খান রাহিমাহুল্লাহ এবং মুনাজিরে যামান মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী হাফিজাহুল্লাহ তাঁকে খুবই মূল্যায়ন করতেন। তাঁর পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে কোন আবদার জানালে তা তাঁরা সঙ্গে সঙ্গেই গ্রহণ করে নিতেন। সিলেটের দ্বীনি মাদারিস সম্পর্কিত কোন সমস্যা বা মহল্লা গোষ্ঠীগত কোন সমস্যায় কেউ জর্জরিত হয়ে হযরত মাওলানা আবদুল মু'মিন পাকিস্তানি রাহিমাহুল্লাহর স্মরণাপন্ন হলে তিনি খুবই সুন্দর পরামর্শ ও সমাধান দিয়ে দিতে পারতেন। ইনসাফভিত্তিক মীমাংসা করে দিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি শান্ত করে দিতে পারতেন।
মাওলানা আবদুল মু'মিন পাকিস্তানি রাহিমাহুল্লাহ এমন কতগুলো বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন, যে গুণগুলো অনেকের কাছে নেই বললেই চলে। তিনি আত্মীয়তার বন্ধনের প্রতি খুবই যত্নবান ছিলেন। দূরসম্পর্কের আত্মীয়দেরও খোঁজ খবর নিতেন। হাদিয়া তুহফা নিয়ে তাদের বাড়িতে যেতেন। সার্বিক হালাত জেনে নিতেন। গরীব দুঃখীদের প্রতি ছিলেন সীমাহীন আন্তরিক। সাধ্যানুযায়ী মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতেন। আর্থিক সহযোগিতা করতেন। আলেম-উলামা ও তালাবাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতেন। তাঁদের ইহতেরামের প্রতিও খেয়াল রাখতেন এই হিতৈষী বিদ্বান ব্যক্তি। আলেম উলামা ও ধর্মপ্রাণ জনসাধারণ আহূত রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সকল প্রোগ্রামে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থিত থাকতেন। ওয়াদা বা অঙ্গীকার পূরণে ছিলেন বদ্ধপরিকর। দ্বীনি বিষয়ে ছোটখাটো কোনো বিষয়ে উলামাদের মাঝে কোন বিভাজন দেখা দিলে মাওলানা আবদুল মু'মিন পাকিস্তানি রাহ. তখন সর্বপ্রথম সমঝোতা প্রস্তাব নিয়ে উভয়পক্ষের কাছে যেতেন। সুন্দর ফায়সালা ও সুপরামর্শে উভয়পক্ষকে মিলিয়ে দিতে পারতেন।
হযরত মাওলানা আবদুল মু'মিন পাকিস্তানি রাহিমাহুল্লাহ আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগেই আমেরিকায় ইন্তেকাল করেছেন। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু তিনি আজ আর আমাদেও মাঝে নেই। তবে রেখে গেছেন তাঁর অনেক শানদার কারনামা। যেগুলো তাঁর নাজাতের উসীলা হিসেবে পরকালে কাজে লাগবে। আল্লাহ তাঁর কবরকে রহমতের বারিধারায় সিক্ত রাখুন। জান্নাতুল ফেরদাওসের উচ্চাসন হয় যেনো তাঁর মর্যদা জনক আসন। আ-মীন!


লেখক.

শিক্ষাসচিব মুলাগুল নেসারুল কুরআন ডাউকেরগুল মাদরাসা, কানাইঘাট, সিলেট।


Comments

Popular posts from this blog

দারুল উলূম নিউইয়র্কে আব্বাজানের তিন বছর!

হাফিজ শিহাব উদ্দিন ফরহাদ আব্বাজান শায়খ আবদুল মুমিন পাকিস্তানি রাহ. দেশের বড় বড় মাদরাসায় ইহতেমামি ও তালিমী খিদমত করার পর জীবনের শেষ দিকে ২০১৪ ঈসায়ী সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান। আমার মেজো দুলাভাই মাওলানা আবু জাহিদ সাহেব তখন নিউইয়র্ক দারুল উলূমে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে খেদমতে ছিলেন। তিনি দারুল উলূম কর্তৃপক্ষকে আব্বাজানের এখানে আসার কথা জানালেন। আব্বাজানসহ বাংলাদেশের প্রথিতযশা আরও দুইজন আলেম গাছবাড়ি কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুর রহীম ও রামধা মাদরাসার সানী শায়খুল হাদীস মাওলানা আজীজুর রহমান ঘোগারকুলী সাহেবান আমেরিকায় চলে আসেন। নিউয়র্ক দারুল উলূম মাদরাসা তখন ছিলো মিশকাত জামাত পর্যন্ত। দাওরায়ে হাদীসের জামাত ছিল না। মিশকাত জামাত পড়ে তালিবুল ইলমরা সাউথ আফ্রিকায় দাওরায়ে হাদিসের জামাত পড়তে চলে যেত। সেখানে শিক্ষাজীবন কমপ্লিট করত। কিন্তু ভিসাজনিত সমস্যার দরুণ সে বছর দারুল উলূম নিউইয়র্কের ছাত্ররা সাউথ আফ্রিকায় যেতে পারেনি। ইত্যবসরে তিনজন প্রথিতযশা আলেমের আগমনে দারুল উলূম কর্তৃপক্ষ খুবই খুশী হলো। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন এই তিনজনকে দিয়েই দাওরায়ে হাদীসের জামাত উদ্বোধন করবেন। কিন্তু ছাত্ররা তো মিশকাত জ...

স্মৃতিতে পিতার কর্মযজ্ঞ এবং চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা

কামরুদ্দীন ইয়াহইয়া সাল ২০০২ এর শেষভাগ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা না দিয়েই ওয়ালীদে মুহতারাম মাওলানা আব্দুল মুমিন রহ.’র সাথে সিলেট শহরে চলে আসি। তিনি সবে নয়াসড়ক মাদরাসায় ইহতেমামির দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছেন। আব্বাকে কাছে থেকে দেখার, কথা বলার, তার সাথে চলাফেরার আমার তখনই শুরু হয়। এর আগে ক্ষীণ দু’একটি স্মৃতি ছাড়া আর কিছু মনে পড়ে না। নয়াসড়ক মাদরাসা তখন আলিয়া ছুওম বা আলিয়া চাহারম (জালালাইন) ছিল। তবে মাদরাসা হিসেবে খ্যাতি এবং এর পরিব্যপ্তি খুবই কম ছিল। যতটুকু ছিল তা হিফজ মাদরাসা হিসেবে ছিল। এলাকাবাসী হাফিজি মাদরাসা বলে সম্বোধন করতো। কুরবানি ঈদে পশুর চামড়া আশপাশের অনেক মানুষ মাদরাসায় দিতে চাইত না। তাদের ভাষ্য ও মনোভাব ছিল, এটা ছোট মাদরাসা। হাফিজি মাদরাসা। দরগা মাদরাসা বড় এবং এর পরিচিতি সমগ্র দেশে। সেখানে দেয়া উচিৎ। মাদরাসার প্রাতিষ্ঠানিক নামও ছিল- মাদরাসায়ে হাফিজিয়া ইসলামিয়া নয়াসড়ক। জামাতে ছাত্রসংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমানে ছিল না। জামাতের তুলনায় হিফয় বিভাগে ছাত্রসংখ্যা গড়পড়তা একটু বেশি ছিল। হিফয-উত্তীর্ণ ছাত্রদের বেশিরভাগই দরগা মাদরাসা বা রেঙ্গা মাদরাসা কিংবা কাজিরবাজার মাদর...