Skip to main content

Posts

Showing posts from January, 2026

দারুল উলূম নিউইয়র্কে আব্বাজানের তিন বছর!

হাফিজ শিহাব উদ্দিন ফরহাদ আব্বাজান শায়খ আবদুল মুমিন পাকিস্তানি রাহ. দেশের বড় বড় মাদরাসায় ইহতেমামি ও তালিমী খিদমত করার পর জীবনের শেষ দিকে ২০১৪ ঈসায়ী সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান। আমার মেজো দুলাভাই মাওলানা আবু জাহিদ সাহেব তখন নিউইয়র্ক দারুল উলূমে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে খেদমতে ছিলেন। তিনি দারুল উলূম কর্তৃপক্ষকে আব্বাজানের এখানে আসার কথা জানালেন। আব্বাজানসহ বাংলাদেশের প্রথিতযশা আরও দুইজন আলেম গাছবাড়ি কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুর রহীম ও রামধা মাদরাসার সানী শায়খুল হাদীস মাওলানা আজীজুর রহমান ঘোগারকুলী সাহেবান আমেরিকায় চলে আসেন। নিউয়র্ক দারুল উলূম মাদরাসা তখন ছিলো মিশকাত জামাত পর্যন্ত। দাওরায়ে হাদীসের জামাত ছিল না। মিশকাত জামাত পড়ে তালিবুল ইলমরা সাউথ আফ্রিকায় দাওরায়ে হাদিসের জামাত পড়তে চলে যেত। সেখানে শিক্ষাজীবন কমপ্লিট করত। কিন্তু ভিসাজনিত সমস্যার দরুণ সে বছর দারুল উলূম নিউইয়র্কের ছাত্ররা সাউথ আফ্রিকায় যেতে পারেনি। ইত্যবসরে তিনজন প্রথিতযশা আলেমের আগমনে দারুল উলূম কর্তৃপক্ষ খুবই খুশী হলো। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন এই তিনজনকে দিয়েই দাওরায়ে হাদীসের জামাত উদ্বোধন করবেন। কিন্তু ছাত্ররা তো মিশকাত জ...

স্মৃতিতে পিতার কর্মযজ্ঞ এবং চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা

কামরুদ্দীন ইয়াহইয়া সাল ২০০২ এর শেষভাগ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা না দিয়েই ওয়ালীদে মুহতারাম মাওলানা আব্দুল মুমিন রহ.’র সাথে সিলেট শহরে চলে আসি। তিনি সবে নয়াসড়ক মাদরাসায় ইহতেমামির দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছেন। আব্বাকে কাছে থেকে দেখার, কথা বলার, তার সাথে চলাফেরার আমার তখনই শুরু হয়। এর আগে ক্ষীণ দু’একটি স্মৃতি ছাড়া আর কিছু মনে পড়ে না। নয়াসড়ক মাদরাসা তখন আলিয়া ছুওম বা আলিয়া চাহারম (জালালাইন) ছিল। তবে মাদরাসা হিসেবে খ্যাতি এবং এর পরিব্যপ্তি খুবই কম ছিল। যতটুকু ছিল তা হিফজ মাদরাসা হিসেবে ছিল। এলাকাবাসী হাফিজি মাদরাসা বলে সম্বোধন করতো। কুরবানি ঈদে পশুর চামড়া আশপাশের অনেক মানুষ মাদরাসায় দিতে চাইত না। তাদের ভাষ্য ও মনোভাব ছিল, এটা ছোট মাদরাসা। হাফিজি মাদরাসা। দরগা মাদরাসা বড় এবং এর পরিচিতি সমগ্র দেশে। সেখানে দেয়া উচিৎ। মাদরাসার প্রাতিষ্ঠানিক নামও ছিল- মাদরাসায়ে হাফিজিয়া ইসলামিয়া নয়াসড়ক। জামাতে ছাত্রসংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমানে ছিল না। জামাতের তুলনায় হিফয় বিভাগে ছাত্রসংখ্যা গড়পড়তা একটু বেশি ছিল। হিফয-উত্তীর্ণ ছাত্রদের বেশিরভাগই দরগা মাদরাসা বা রেঙ্গা মাদরাসা কিংবা কাজিরবাজার মাদর...

একজন বিচক্ষণ আলিমেদ্বীনের শানদার গল্প!

আবদুস সালাম আযাদ বাল্যকালে বড়দের মুখে মুখে আমাদের জকিগঞ্জের এক কীর্তিমান আলিমের নাম উচ্চারিত হতে শুনতাম। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও বিচক্ষণতা, কাজে দৃঢ়তা ও কথাবার্তায় বলিষ্ঠতা, যবানে মিষ্টতা এবং মুখে রসিকতার নানান গল্প-উপাখ্যানের কথাও থাকতো বড়দের মুখে। তখন থেকে তাঁর প্রতি এক অন্যরকম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আমার মাঝে কাজ করে। তাঁকে একনজর সরাসরি দেখার প্রতি আগ্রহও তৈরি হয়। যখন একটু বোধবুদ্ধির অধিকারী হই তখন জানলাম এই মহান মানুষের আত্মীয়তা আমাদের গ্রাম বারঠাকুরীতেই। এখানে উনার শ্বশুরবাড়ি। জকিগঞ্জ থানার পরিচিত এক সালিস ব্যক্তিত্ব আমাদের বারঠাকুরীর প্রবীণ মুরব্বি অধমের সম্পর্কিত চাচা মরহুম ফুরকান আলী রাহ. হলেন হযরতের শ্বশুর। হযরত মাওলানা আবদুল মু'মিন পাকিস্তানি রাহ. ১৯৫৬ ঈসায়ী সালের ২রা এপ্রিল ৫ নং জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভাখরশাল (মানিকপুর) গ্রামে এক দ্বীনদার ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম মৃত হাজী আমীর আলী ও মাতার নাম জয়নব বেগম। শৈশবের শিক্ষার হাতে খড়ি নিজ পিতামাতার তত্ত্বাবধানেই। এরপর মসজিদের মক্তব থেকেই তাঁর ধর্মীয় শিক্ষার প্রাথমিক ফাউন্ডেশন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার যাত্রা গ্রামের স্কুল থ...